
চট্টগ্রাম নগরে হিজড়া সম্প্রদায়ের একাংশের গুরুমা মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়া (৫০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মোমিন ওরফে শেখ রনি (৩৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অনলাইন জুয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে টাকার জন্য চাপ দিলে বিরোধের জেরে মৌসুমীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মোমিন।
গ্রেপ্তার মোমিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানার সব্দলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় আরেক হিজড়া নেত্রী ফাল্গুনী হিজড়ার ‘কথিত স্বামী’ হিসেবে পরিচিত এবং নগরের পাহাড়তলী থানার পাঠানপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। সোমবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম।
অনলাইন জুয়া ও হত্যাকাণ্ডের বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোমিন দীর্ঘ দিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়ায় বড় অঙ্কের টাকা হারানোর পর তিনি নিয়মিত মৌসুমী হিজড়ার কাছে যেতেন। তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় প্রায়ই মৌসুমীর কাছ থেকে তিনি টাকা নিতেন।
ঘটনার রাতে জুয়ায় হেরে টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে আমবাগান রেলওয়ে কলোনি-সংলগ্ন হিজড়া কলোনিতে মৌসুমীর বাসায় যান মোমিন। সেখানে ঘনিষ্ঠতার একপর্যায়ে টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে মোমিন নিজের পায়জামার সুতা দিয়ে মৌসুমীর গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাঁকে হত্যা করেন।
সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তিতে আসাম শনাক্ত
গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজের বাসা থেকে মৌসুমীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি বাসায় একাই থাকতেন এবং তাঁর গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে রেলওয়ে কলোনি কবরস্থানে দাফন করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তে নেমে পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। এতে এক যুবককে গভীর রাতে মৌসুমীর ঘরে প্রবেশ করতে এবং ভোরে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে মোমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে মোমিন নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন।
অনলাইন ডেস্ক 

























