
বিচারাধীন মামলায় আসামিদের জামিন মঞ্জুর সংক্রান্ত এক প্রকাশ্য মন্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামানকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এস এম জুলফিকার আলী জুনু নোটিশটি প্রেরণ করেন।
সম্প্রতি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় কুমিল্লার এসপি মন্তব্য করেছিলেন, “পুলিশ আসামি ধরবে আর ম্যাজিস্ট্রেট জামিন দিয়ে দেবেন, তা হয় না।” গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আইন অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়।
নোটিশে যা বলা হয়েছে:
-
আইনগত ব্যাখ্যা দাবি: বক্তব্যটির প্রকৃত অর্থ, প্রেক্ষাপট এবং এটি কোন আইন বা সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে—তা আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে এসপিকে অনুরোধ করা হয়েছে।
-
বিচার বিভাগের এখতিয়ার: ফৌজদারি কার্যবিধির (১৮৯৮) ৪৯৭ ধারা উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, জামিন দেওয়া বা না দেওয়া সম্পূর্ণ আদালতের বিচারিক ক্ষমতার বিষয়। পুলিশ গ্রেপ্তার করলেই যে জামিন আটকাবে, আইনে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
-
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদা: কোনো পুলিশ কর্মকর্তার এমন মন্তব্য বিচারিক স্বাধীনতা, আদালতের সম্মান ও বিচার প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
-
আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি: বিচারিক আদেশে কোনো আপত্তি থাকলে পুলিশের উচ্চতর আদালতে আইনানুগ প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষায় হাইকোর্টে আবেদন করা হবে বলে জানান নোটিশদাতা।
আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু জানান, বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি, স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























