
রাজধানীর অভিজাত এলাকা বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা এক নির্মাণশ্রমিককে বেপরোয়া প্রাইভেট কার দিয়ে পিষে মারার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। আলোচিত এই হত্যা মামলায় ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে সমঝোতার একটি ‘আপসনামা’ শিশু আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত কিশোরের আইনজীবী আলমগীর হোসেন আদালতে এই আপসনামাটি দাখিল করেন। আজ দুপুরেই বিষয়টি নিয়ে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ২৪ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে পড়ে এবং মেহেদীকে পিষে দেয়। আশপাশের পথচারীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রক্তাক্ত অবস্থায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মেহেদীর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।
ঘটনার পর পর পথচারীরা গাড়ি থেকে নামা একজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আটক ওই তরুণ একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী, তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন ক্যাপ্টেন এবং গাড়িটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত। প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় চালকের আসনে ওই কিশোরই ছিল।
তবে আটক করার পর বুধবার রাতে গুলশান থানা-পুলিশ ওই কিশোরকে ছেড়ে দেয়। পুলিশের দাবি ছিল, নিহতের ভাই মোক্তাদীর ইসলাম এজাহারে চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন, যেখানে ওই কিশোরের নাম ছিল না। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠলে বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ তাকে পুনর্গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয়।
সবশেষ খবর অনুযায়ী, মামলার এই আইনি টানাপোড়েনের মাঝেই এবার ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আদালতে আপস মীমাংসার দিকে গড়াচ্ছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























