
রাজধানীর খিলক্ষেতে পুলিশ অফিসার্স হাউজিং এলাকার একটি বিলাসবহুল বাড়িতে ডিজে পার্টি ও মাদকের আসরে অভিযান চালিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তা ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীসহ মোট ৮৫ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
জানা গেছে, ওএসডি হওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন পাঁচ কক্ষের বাড়িটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘এয়ারবিএনবি’-এর মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হতো।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটিতে প্রতি মাসে গড়ে ১৮ থেকে ২০টি প্রোগ্রাম হতো। প্রতিটি রুম ১০ জন পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হতো এবং অতিরিক্ত প্রতি ব্যক্তির জন্য ৬০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়া হতো। প্রতি আয়োজনে লাখ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হতো। তবে ডিজে পার্টির আড়ালে এই বিপুলসংখ্যক উচ্চবিত্ত তরুণ-তরুণী ও করপোরেট কর্মকর্তার একত্রিত হওয়াকে নিছক কাকতালীয় মানতে নারাজ গোয়েন্দারা। এর নেপথ্যে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযান ঠেকাতে নানা মহলের তদবির উপেক্ষা করেই ডিবির টিম এই অভিযান পরিচালনা করে।
উদ্ধারকৃত তালিকা অনুযায়ী, সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি), ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী রয়েছেন। এছাড়া এশিয়াটিক, গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি), প্রাণ-আরএফএল, এসিআই মোটরসসহ বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটররাও এই তালিকায় রয়েছেন।
অনেকে নিজেদের সঠিক পরিচয় ও পেশা গোপন করে ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।
অভিযানের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পুরুষ আসামিদের ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে আরও ৩ দিনের কারাদণ্ড) দেওয়া হয়। অন্যদিকে নারী আসামিদের ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মঙ্গলবারই তাদের সকলকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং পরবর্তীতে কাশিমপুর ও কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























