
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত দুটি হত্যা এবং একটি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা তিন মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি, অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় ৩০৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখায় এই অভিযোগপত্রগুলো জমা দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনটি মামলার অভিযোগপত্রেই প্রধান আসামি হিসেবে শেখ হাসিনার নাম রাখা হয়েছে। এছাড়া সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও এসব মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুরে বিক্ষোভ মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ আগস্ট মারা যান ইলিয়াস। এ ঘটনায় তার বাবার করা মামলায় পুলিশ গত ৩০ সেপ্টেম্বর ৪৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এই মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, বোন শেখ রেহানা, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ ও সাবেক ডিএমপি কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকারের নাম রয়েছে। এছাড়া ৬৬ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী ১৬ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে এই মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
৫ আগস্ট বাড্ডা ইউলুপ এলাকায় আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী রায়হান আকন। এ ঘটনায় তার বাবার দায়ের করা মামলায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর ৪৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন বাড্ডা থানার এসআই সুমন মিয়া। এই মামলায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের পাশাপাশি আওয়ামী নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নামও রয়েছে। এছাড়া ২৩৬ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
চাকরির সন্ধানে ঢাকা এসে জুলাই অভ্যুত্থানে আহত হন অটোরিকশাচালক মেহেদী হাসান। তার করা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার এসআই সেলিম উদ্দীন। এই মামলায় আলমাছ নামের একজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























