
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মগবাজার ও এর আশপাশের এলাকায় অবৈধ চোরাই সিএনজি অটোরিকশা বেচাকেনা, বিপুল পরিমাণ অর্থের সন্দেহজনক লেনদেন এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ‘নান্টু’ নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, এই চোরাই বাণিজ্যের মাধ্যমে রাতারাতি বিপুল ধন-সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র ও তথ্য অনুযায়ী, অতীতে চোরাই সিএনজিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (ডিবি পুলিশ) হাতে নান্টুর গ্রেপ্তার হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক বিতর্কিত কাউন্সিলর লোকমান সরদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদেই মগবাজারে এই চোরাই সিন্ডিকেট ডালপালা মেলেছিল। নিজেকে সাধারণ ব্যবসায়ী হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করলেও তাঁর এই অঢেল সম্পদের উৎস নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও কৌতূহল বিরাজ করছে।
সাম্প্রতিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রমনা ও হাতিরঝিল থানা এলাকার কয়েকজন পলাতক রাজনৈতিক নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় প্রায় ৩ কোটি টাকার একটি বিশাল গোপন তহবিল গঠিত হয়েছে। ওই তহবিলের অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ৯টি চোরাই সিএনজি কেনাবেচার অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে নান্টুর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মগবাজার চৌরাস্তা, রেইনবো সিগন্যাল, ওয়্যারলেস রেলগেট, বাংলামোটরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে এই চক্র থেকে আর্থিক জোগান দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, নান্টু অতীতে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পলাতক নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে মগবাজারের কয়েকটি আবাসিক হোটেলে গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে আইনি ব্যবস্থা থেকে বাঁচতে ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তিনি ভিন্ন রাজনৈতিক মহলের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নান্টুর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ভুক্তভোগী সাধারণ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর জোরালো দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যদি এই চোরাই সিএনজি সিন্ডিকেটের অর্থ লেনদেন, ভুয়া নিবন্ধন ও রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে, তবে এর আসল রহস্য উন্মোচিত হবে। অবিলম্বে এই চক্রের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অনলাইন ডেস্ক 
























