
রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা এবং কালের কণ্ঠের এক মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টারের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেলেও দীর্ঘ ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও মোবাইল ফোনটি ফেরত পাননি ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাহবুব ইসলাম দৈনিক কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত আছেন। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম জাহিদুল ইসলাম, যিনি ডিএমপির মিরপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি)।
জানা গেছে, রোববার (১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুরে আন্দোলনকারী পোশাক শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সেই দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করছিলেন সাংবাদিক মাহবুব ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, এ সময় হঠাৎ এডিসি জাহিদুল ইসলাম তাঁর দিকে এগিয়ে এসে মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেন। মাহবুব নিজের পরিচয়পত্র দেখিয়ে বারবার অনুরোধ করলেও তাঁকে ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়নি।
ঘটনার সময় মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন মাহবুব। পরবর্তীতে এডিসি জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটি ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং একপর্যায়ে জানান যে ফোনটি নির্দিষ্ট একটি স্থানে রয়েছে। তবে সর্বশেষ যোগাযোগ করা হলে পুলিশ জানায়, ফোনটি এখনো তাদের হাতে পৌঁছায়নি এবং ফোন না পাওয়া গেলে নতুন কিনে দেওয়ার কথাও বলা হয়।
ভুক্তভোগী মাহবুব ইসলাম বলেন, ‘আমার মোবাইল ফোনে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশেষ প্রতিবেদনসংক্রান্ত বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে। ফোনটি না থাকায় সারাদিন কোনো কাজ করতে পারিনি।’
একই ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন ঢাকা পোস্টের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মারুফ হোসেন। ভিডিও ধারণের সময় এডিসি জাহিদুল ইসলাম তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ভাই, আপনারা কী ভিডিও করছেন? সরে যান, দূরে যান।’
ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন অনেক ঝামেলায় আছি, মাথা গরম আছে।’ জবাবে সাংবাদিক মারুফ বলেন, ‘আপনি অপেশাদার আচরণ করছেন। আন্দোলনে পুলিশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আপনার মতো একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ করলে অধঃস্তনরা কী করবেন?’ পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় সাংবাদিকরা সেখান থেকে সরে আসেন।
সাংবাদিকের মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে এডিসি জাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, ‘আমি সাংবাদিকের কোনো মোবাইল নিইনি।’
তবে উপস্থিত সাংবাদিকরা তাঁকে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখালে তিনি সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
অনলাইন ডেস্ক 

























