
দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজধানী ঢাকায় শুরু হয়েছে কোম্পানিভিত্তিক (ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি) আধুনিক বাস সেবা। দীর্ঘ ১১ বছরের দীর্ঘসূত্রিতা পেরিয়ে রবিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী এবং পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান বিশ্বাস শিমুল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের কঠোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার ফলেই এই যুগান্তকারী উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
বিশৃঙ্খল ঢাকাকে ট্রাফিক জ্যাম ও দুর্ঘটনা মুক্ত করতে ২০১৫ সালে বাস রুট রেশনালাইজেশনের পরিকল্পনা করা হয়। ঢাকার ৯৮টি সক্রিয় রুটকে কমিয়ে আনা হয়েছে ৩২টিতে। এতদিন একই রুটে ৮ থেকে ১০টি কোম্পানির বাস চলাচল করায় সড়কে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, অযাচিত যানজট এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি হতো। এখন থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতির আওতায় প্রতিটি নির্দিষ্ট রুটে একটিমাত্র নির্দিষ্ট কোম্পানির অধীনে বাসগুলো পরিচালিত হবে।
প্রথম ধাপে রবিবার থেকে যে ছয়টি রুটে নতুন পদ্ধতিতে বাস চলাচল শুরু হয়েছে, সেগুলো হলো:
গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে আজিমপুর
মিরপুর থেকে কেরাণীগঞ্জ
ঘাটারচর থেকে ডেমরা
ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর
ঘাটারচর থেকে ধউর
টঙ্গী থেকে আজিমপুর
পাশাপাশি মিরপুর-১ থেকে কচুক্ষেত, সৈনিক ক্লাব, জাহাঙ্গীর গেট ও আগারগাঁও হয়ে আনসার ক্যাম্প পর্যন্ত একটি নতুন চক্রাকার (Circular) বাস রুটও চালু করা হয়েছে। তবে প্রথম দিনে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে মিরপুর ও গাজীপুর অঞ্চলের কিছু বাস চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে শামসুর রহমান বিশ্বাস শিমুল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এটি কেবল লোক দেখানো কোনো ফটোসেশন নয়; বরং সরকার একে স্থায়ী রূপ দিতে বদ্ধপরিকর। আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাকি ২৬টি রুটেও এই কোম্পানিভিত্তিক সেবা চালু করা হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানান, সড়কে অসুস্থ প্রতিযোগিতা রোধে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৮টি কোম্পানির বাসকে ছয়টি কোম্পানির অধীনে এনে এই রুটগুলো সচল করা হয়েছে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত ২৫টি চক্রাকার রুটের বাকিগুলোও চালুর প্রক্রিয়া চলছে।
সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম জানান, নতুন এই ব্যবস্থায় চালকরা আর দৈনিক চুক্তিতে নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট মাসিক বেতনে বাস চালাবেন। খুব দ্রুতই সব বাসে নির্দিষ্ট রঙের ব্যবহার, সুনির্দিষ্ট রুট নম্বর এবং ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড যুক্ত করা হবে।
ঢাকা সড়ক পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান সতর্ক করে বলেছেন, এটি কোনো পাইলট প্রকল্প নয়, বরং চূড়ান্ত বাস্তবায়ন। এই মহৎ উদ্যোগে যারা বাধা সৃষ্টি করতে চাইবে বা সড়কে বাস আটকে রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
রাজধানীবাসী এখন দীর্ঘদিনের যানজট ও বাসের যত্রতত্র থামার সংস্কৃতি থেকে মুক্তি পেয়ে একটি সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থার প্রত্যাশা করছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























