
রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার জন্য কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নিয়ে আসছে সরকার। আজ সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে এর নিবন্ধন কার্যক্রম। নতুন এই নিয়মের আওতায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকাকে মোট আটটি জোনে ভাগ করা হবে এবং প্রতিটি জোনের জন্য আলাদা রঙের ই-রিকশা নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।
নিবন্ধিত ই-রিকশাগুলোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু কড়া শর্ত ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
জোনভিত্তিক চলাচল: এক জোনের ই-রিকশা অন্য কোনো জোনে গিয়ে চলাচল করতে পারবে না। কোন এলাকায় কতটি ই-রিকশা চলবে, তা সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।
গতিসীমা: ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এই গতি কোনোভাবেই ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারের বেশি হতে পারবে না।
নিরাপত্তা ও মানদণ্ড: প্রতিটি রিকশায় অবশ্যই স্পিডোমিটার এবং কিউআর কোডযুক্ত নিবন্ধন নম্বর থাকতে হবে। এছাড়া যানগুলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ডে তৈরি হতে হবে।
নিষিদ্ধ সড়ক: জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক, করিডোর এবং প্রশাসন কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সড়কে ই-রিকশা চলতে পারবে না।
মালিকানা ও ফি: একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন। দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা (বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা) এবং চার যাত্রী ধারণক্ষমতার রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা (বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কিউআর কোডের জন্য অতিরিক্ত ১ হাজার টাকা দিতে হবে।
মেয়াদকাল: নিবন্ধনের মেয়াদ হবে ৫ বছর এবং একটি ই-রিকশার সার্বিক আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ১২ বছর।
অন্যান্য নির্দেশনা: চার্জিং স্টেশনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিকভাবে চালকদের পরিচয়পত্র দেওয়া হলেও তা ড্রাইভিং লাইসেন্স হিসেবে গণ্য হবে না; তবে পরবর্তীতে তাদের পর্যায়ক্রমে লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।
অনলাইন ডেস্ক 























