
আগামী সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ নিয়ে আসার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম)। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী ৫ থেকে ৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ৩০তম ‘ইউএস ট্রেড শো’।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অ্যামচ্যাম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যামচ্যাম সভাপতি জানান, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পেয়েছে। বর্তমান সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে আগামী সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছরে সমপরিমাণ অর্থাৎ আরও ৫ বিলিয়ন ডলার নতুন বিনিয়োগ আনার বিশাল সম্ভাবনা দেখছে সংগঠনটি।
বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে জ্বালানি নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বড় শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে অ্যামচ্যাম। খুব দ্রুতই সরকারের কাছ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট জ্বালানি রোডম্যাপ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এছাড়া এবারের প্রদর্শনীতে জ্বালানি খাত নিয়ে একটি বিশেষ সেমিনারও অনুষ্ঠিত হবে।
সব খাতে অন্ধভাবে নজর না দিয়ে যেসব ক্ষেত্রে মার্কিন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজনের (व্যালু অ্যাডিশন) সুযোগ রয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে অ্যামচ্যাম।
এবারের ট্রেড শোতে বিভিন্ন দেশের অ্যামচ্যাম প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশে এখনো কার্যক্রম শুরু করেনি—এমন বেশ কিছু নতুন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীও থাকবেন। নতুন ১০ থেকে ১২টি মার্কিন কোম্পানিকে দেশের বাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলতে পারাকে এবারের আয়োজনের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে আয়োজকরা।
প্রতিষ্ঠান ও বুথ: মেলায় ৩৬টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং ৭টি স্টার্টআপ অংশ নিচ্ছে। মোট বুথের সংখ্যা ৬৩টি।
অংশগ্রহণকারী ব্র্যান্ড: ক্যাটারপিলার, শেভরন, এক্সন মবিল, মেটলাইফ, সিটি গ্রুপ, মাস্টারকার্ড, ভিসা, কোলগেট-পামোলিভ, ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল, পেপসিকো, কস্টকো, পিপিজি, ইউপিএস ও কারগিলসহ নামী মার্কিন ব্রান্ডগুলো এতে প্রতিনিধিত্ব করছে।
বিশেষ জোন: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা, ভোগ্যপণ্য, উৎপাদন ও লজিস্টিকস, শিক্ষা এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসার জন্য আলাদা জোন থাকছে। পাশাপাশি থাকবে স্টার্টআপ জোন, কার্নিভাল জোন এবং অ্যামচ্যামের ৩০ বছরের ইতিহাস নিয়ে হেরিটেজ কর্নার।
সেমিনার: তিন দিনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতি, নারী নেতৃত্ব, সিলেক্ট ইউএসএ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে মোট ছয়টি বিষয়ভিত্তিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি সর্বসাধারণ ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
১৯৯২ সালে অ্যামচ্যামের উদ্যোগে বাংলাদেশে ‘ইউএস ট্রেড শো’ যাত্রা শুরু করে। মাঝে প্রায় আড়াই বছরের বিরতির পর এবার জাঁকজমকপূর্ণভাবে ফিরছে এই আয়োজন। একই সঙ্গে এটি সংগঠনটির ৩ যুগ বা ৩০ বছর পূর্তির বিশেষ উদযাপনেরও অংশ।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল জি ফ্রস্ট উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইন ডেস্ক 

























