Dhaka ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু ভাঙ্গায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিহত করার আহ্বান দেশে আর কোনো গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা দেখতে চায় না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেমিট্যান্স আহরণ ও সেবা আরও সহজ করতে ওয়ান ব্যাংকের সাথে নগদের কৌশলগত চুক্তি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও থামেনি বিএডিসির বীজ সিন্ডিকেট: বহাল তবিয়তে ‘বঙ্গ অ্যাগ্রিটেক’ মিরপুরে ডিএনসিসির বড় অভিযান: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই হাজার অবৈধ দোকান বন বিভাগে ‘পে-ফিক্সেশন’ বাণিজ্য: ফাইলপ্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ, জিম্মি সাধারণ কর্মচারীরা পঞ্চগড় বোদা ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য: তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভিডিও ভাইরালের পর ক্ষোভ কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে ২ কোটি টাকার চাল ও ধান আত্মসাৎ: দুদকের মামলা চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীতে অভিযান: ১ লাখ মিটার জাল ও ২৫০ কেজি ইলিশসহ আটক ৩

বরুড়ায় মোবাইল উদ্ধার ঘিরে রহস্য: বাদী বলছেন এক কথা, পুলিশ বলছে অন্য কথা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : ০৭:২৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৫ বার

কুমিল্লার বরুড়ায় একটি মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নানা গুঞ্জন ও বিতর্ক। মোবাইল ফোন উদ্ধারের পর দায়ের হওয়া একটি মামলায় বাদী ও সাক্ষী নির্বাচন, এজাহারে ভুল স্থান উল্লেখ এবং আসামিপক্ষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে পুলিশ দাবি করেছে, সব নিয়ম মেনেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, তাওহীদুল ইসলাম (২১) নামের এক যুবকের কাছে মোবাইল কেনার কথা বলে তিন যুবক সেটি নিয়ে যায় এবং টাকা না দিয়ে তাঁকে তাড়িয়ে দেয়। তাওহীদুলের দাবি অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ভৈষখলা চায়ের দোকানের সামনে। অথচ মামলার এজাহারে ঘটনাস্থল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের রাস্তা। ঘটনার প্রকৃত স্থান ও এজাহারে উল্লেখিত স্থানের এই অমিল নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

গত ২০ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে বরুড়া থানা পুলিশের নিয়মিত টহল দল তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে এবং তাঁদের কাছ থেকে তাওহীদুলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। পরদিন ২১ অক্টোবর বরুড়া থানায় দস্যুতা সংগঠনের অভিযোগে ১৪ নম্বর মামলা নথিভুক্ত হয়, যার বাৎসরিক নম্বর ২১৩। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে মো. গালিব ওরফে সায়েমকে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় আসামি হলেন যথাক্রমে সানজিদ হাসান সিপাত ও জাবের মাহমুদ।

মামলার বাদী ও সাক্ষীদের দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটিতে তাঁদের অজ্ঞাতেই অনেক কিছু করা হয়েছে।

বাদীর বক্তব্য: মাদ্রাসাশিক্ষক তাওহীদুল ইসলাম জানান, তিনি কোনো মামলা করতে চাননি। শুধু মোবাইল ফোনটি ফেরত পেলেই তিনি বাড়ি চলে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে বলা হয় পুলিশ বাদী হয়েছে, তাই শুধু স্বাক্ষর দিতে হবে। পরে তিনি জানতে পারেন তিনিই মামলার বাদী! ৫ হাজার টাকা বেতনের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করা তাওহীদুল এই মামলা পরিচালনার খরচ নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন।

সাক্ষীদের বক্তব্য: মামলার সাক্ষী করা হয়েছে আবদুল্লাহ হাসান ও তাঁর বড় ভাই সাংবাদিক রাসেল হোসেনকে। সাংবাদিক রাসেল জানান, তিনি থানায় সহযোগিতা করতে গেলেও পরে জানতে পারেন তাঁকে ও তাঁর ভাইকে না জানিয়েই মামলার সাক্ষী করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এসআই আবু সাঈদ এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ভিক্টিমের অনুমতি নিয়েই তাঁকে বাদী করা হয়েছে এবং তাঁর ভিডিও বক্তব্যও রেকর্ড করা আছে। সাক্ষীদের বিষয়ে তাঁর দাবি, বাদীর দেওয়া তথ্য অনুসারেই সাক্ষীদের নাম রাখা হয়েছে। ২১ বছর বয়সী যুবকের মামলা করতে অভিভাবকের অনুমতির প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

টাকা নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ও পুলিশের অস্বীকার:
আসামিপক্ষের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাদের দাবি, আসামিদের ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে দ্বিতীয় আসামি সিপাত ও তৃতীয় আসামি জাবেরের পরিবারের কাছ থেকে মোট ৭৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া জাবেরের সাথে থাকা ১০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন রেখে দেওয়া হয়। পরে মামলা হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয় এবং বাকি টাকা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি আসামিদের আদালতে পাঠানোর সময় জব্দ করা টাকা ও মোবাইল এজাহারে দেখানো হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু সাঈদ আসামিপক্ষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের এই অভিযোগ সরাসরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু