Dhaka ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
তিস্তা মহাপরিকল্পনার ডিপিপি শীঘ্রই, দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিশ্চিত করার পরিকল্পনা: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ব্যালন ডি’অর না পাওয়ার আক্ষেপ নেই, ইয়ামাল বললেন—‘একদিন আমার সময়ও আসবে’ আইনি জটিলতা ও সম্মানহানির অভিযোগে ফেসবুকে মুখ খুললেন তানজিন তিশা মুকসুদপুরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন আনন্দ র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশনে হরিলুট: সিন্ডিকেটের শত কোটি টাকার দুর্নীতি ও জালিয়াতির সাম্রাজ্য উন্মোচিত উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষার ওপর জোর দিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে কড়া নজরদারির সুপারিশ সংসদীয় কমিটির দুর্গাপুজোর টিকিট বিক্রিতে আর্থিক অনিয়ম: কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন লক্ষ্মীপুরে মাটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা উরুর চোটে মাঠের বাইরে জোয়াও পেদ্রো

মিরপুরের আলোক হাসপাতালের অনিয়ম: অগ্নিনিরাপত্তার অভাব ও অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার আলোক হাসপাতাল লিমিটেডের বিভিন্ন শাখায় গুরুতর অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। ভবন জোড়া লাগিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা, অপর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রোগীদের কাছ থেকে চড়া মূল্যে ফি আদায়ের মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এক সরেজমিন অনুসন্ধানে।

অগ্নিনিরাপত্তার ঝুঁকি ও বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন

গত ৪ ও ৬ অক্টোবর মিরপুর-১০ মেট্রোরেল এলাকার আলোক হাসপাতাল লিমিটেড, আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার এবং আলোক হেলথকেয়ার—এই তিনটি শাখা পরিদর্শন করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোক হেলথকেয়ারের একটি সাততলা ও অপর একটি পাঁচতলা ভবন জোড়া দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালগুলোর অধিকাংশ শাখায় জরুরি বহির্গমন সিঁড়ি বা পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের বালাই নেই। হাসপাতালগুলোর ছাদের ক্যান্টিন ও খাড়া সিঁড়ির ওপর ভরসা করেই চলছে চিকিৎসাকার্যক্রম, যা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করছে। তবে এ বিষয়ে হাসপাতালের ম্যানেজার সোহেলের দাবি, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র থাকলেও তা “চুরি হয়ে যাওয়ার কারণে” লাগানো হয় না। অন্যদিকে, উপপরিচালক মনির খান দাবি করেছেন, তাদের সব শাখায় পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।

সেবায় চড়া দাম ও অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এসব হাসপাতালে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ আকাশছোঁয়া। উদাহরণস্বরূপ, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে যেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের খরচ মাত্র ৮,৬০০ টাকা এবং রঙিন আল্ট্রাসনোগ্রাফি ১,২০০ টাকা; সেখানে আলোক হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত (ওষুধ ও পরীক্ষা ছাড়া) এবং আল্ট্রাসনোগ্রাফির ফি নেওয়া হচ্ছে ২,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া শয্যা সংকটের অজুহাতে সাধারণ বেডের পরিবর্তে কেবিনে রোগী রেখে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হুঁশিয়ারি

উচ্চমূল্যের বিষয়ে আলোক হাসপাতালের উপপরিচালক মনির খান জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো করপোরেট মানের হওয়ায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের সঙ্গে এগুলোর তুলনা করা চলে না।

এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, সিজারিয়ানে ৯০ হাজার টাকা বা অতিরিক্ত পরীক্ষা ফি আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; রোগীদের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগকে অবিলম্বে নীতিমালা তৈরি করা উচিত।

ঘটনাটি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. নূরুল ইসলাম জানান, আলোক হাসপাতালের সমস্ত অসঙ্গতি খতিয়ে দেখতে খুব শীঘ্রই সরেজমিন পরিদর্শন করা হবে এবং প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

তিস্তা মহাপরিকল্পনার ডিপিপি শীঘ্রই, দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিশ্চিত করার পরিকল্পনা: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী