
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানায় এক বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতার গোপন বৈঠক এবং নদীতে জাহাজ আটকে রেখে জিম্মি ও দখলের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে থানায় বারবার ধর্না দিয়েও পুলিশের রহস্যজনক নীরবতার কারণে চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।
অভিযোগ উঠেছে, কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদের ব্যক্তিগত কক্ষে সম্প্রতি এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন স্থানীয় এক বিতর্কিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী। দেশজুড়ে যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে কঠোর আইনি অবস্থান দৃশ্যমান, তখন থানা প্রাঙ্গণে খোদ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সর্বোচ্চ কর্মকর্তার কক্ষে এমন বৈঠক নিয়ে এলাকায় তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এই সাক্ষাতের নেপথ্যে বড় অঙ্কের অনৈতিক আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলেও মুখে মুখে প্রচার পাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেবল থানায় বৈঠক করেই ক্ষান্ত হননি ওই নেতা; কর্ণফুলী নদীতে বাণিজ্যিক ও মাছ ধরার জাহাজ নিয়ন্ত্রণের এক নতুন সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন তিনি। মাছ ধরার জাহাজ কেনাবেচার চটকদার ব্যবসার কথা বলে কৌশলে নদীর ঘাট ও নোঙরে থাকা জাহাজগুলো আটকে রাখা হয়। এরপর মূল মালিক ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে জাহাজে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এই নজিরবিহীন জিম্মিদশায় পড়ে লাখ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন অনেক ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবাসও করেছিলেন মোহাম্মদ আলী। কিন্তু জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বিচারাধীন মামলা ও আইনি প্রক্রিয়াকে তোয়াক্কা না করে স্থানীয় অর্থনীতি এবং নদীভিত্তিক কর্মকাণ্ডে তার এমন আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, জাহাজ দখল ও জিম্মি করার ঘটনায় সুনির্দিষ্ট লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ নিয়ে একাধিকবার কর্ণফুলী থানায় গেলেও পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদ এক বাক্যে দাবি করেন, এ ধরনের কোনো বৈঠক কিংবা অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নেপথ্যের সত্য উদঘাটন করে নদী রক্ষা ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি।
অনলাইন ডেস্ক 

























