
চট্টগ্রাম উপকূলীয় বনাঞ্চলে কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে এবার কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ঘুষের অর্থ লেনদেনের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। কুরিয়ার সার্ভিসের রসিদ এবং সংশ্লিষ্টদের ফোনালাপের সূত্রে বন বিভাগের এই সিন্ডিকেটের নানা দুর্নীতির চিত্র নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপকূলীয় বন বিভাগের একটি রেঞ্জে বদলি নিশ্চিত করতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এমএ হাসানের সঙ্গে মোট ছয় লাখ টাকার চুক্তি হয়। এই চুক্তির প্রথম কিস্তির এক লাখ টাকা এসএ পরিবহনের একটি পার্সেল বুকিং রসিদের মাধ্যমে পাঠানো হয়। রসিদে প্রাপক হিসেবে খোদ ডিএফও এমএ হাসানের নাম ও মোবাইল নম্বর স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে কুরিয়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষও এই রসিদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
বন বিভাগের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করলে আইনি ঝুঁকি থাকে বিধায় কুরিয়ার সার্ভিসকে বেছে নেয় এই সিন্ডিকেট। বদলি বাণিজ্যের পাশাপাশি বাগান সৃজন প্রকল্পের কোটি টাকার অর্থ লেনপাতা থেকেও দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের গোপনীয় ও বিকল্প মাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা কুরিয়ারে টাকা পাঠানোর কথা স্বীকার করলেও কী উদ্দেশ্যে এই অর্থ পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
শুরুতে এসএ পরিবহনের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপবন সংরক্ষক ও উপকূলীয় বন বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিএফও এমএ হাসান। তবে হোয়াটসঅ্যাপে কুরিয়ারের রসিদটি পাঠানোর পর তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন এবং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “কে দিয়েছে, তাকে সামনে আনেন। এই টাকা কেন নেওয়া হয়েছে, আপনাকে বলব না।” একপর্যায়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন এবং দ্রুত অন্যান্য রেঞ্জ কর্মকর্তাদের ভয়েস বার্তা পাঠিয়ে সতর্ক করেন বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন প্রকাশ না করার জন্য বন বিভাগের এক কর্মকর্তা ও এক গণমাধ্যমকর্মীর মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়।
পুরো বিষয়টির বিষয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দে বলেন, এমএ হাসান অতীতে সুন্দরবনে তাঁর অধীনে কাজ করেছেন—এটি সত্য। তবে তাঁকে নিজের ‘ডান হাত’ বলার বিষয়টি নাকচ করে তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনা সত্যি ঘটে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনলাইন ডেস্ক 

























