
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার দিল্লালপুর ইউনিয়নের খাটেরা হাটি গ্রামের জেলে মো. নাসির মিয়া (৩৫) হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মাছ ধরার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার প্রায় দুই দিন পর রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মাইছচর ইউনিয়নের কাজীপাড়া কবরস্থানের পাশের নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বাপ্পি (২২) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। অপর অভিযুক্ত দয়াল মিয়া ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
নিহত নাসির মিয়া উপজেলার দিল্লালপুর ইউনিয়নের খাটেরা হাটি গ্রামের মৃত গোলাপ মিয়ার ছেলে এবং দিল্লালপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. বাছির মিয়ার ছোট ভাই। তিনি পেশায় একজন জেলে ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নাসির মিয়া বাড়িতে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় একই গ্রামের দয়াল মিয়া (৪০) ও খলাহাটি গ্রামের মক্কুল মিয়ার ছেলে বাপ্পি (২২) মাছ ধরার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারা নদীতে মাছ ধরতে বের হন। শনিবার সকালে দয়াল ও বাপ্পি বাড়ি ফিরলেও নাসির মিয়া আর বাড়ি ফেরেননি। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার বাপ্পিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলিয়াদী ইউনিয়নের কামেরবালী এলাকার মেঘনা নদীতে নাসির মিয়া ডুবে যাওয়ার কথা জানান বলে স্বজনরা দাবি করেন। পরে স্থানীয়রা বিকেল ৬টার দিকে তার দেখানো স্থানে প্রায় দুই ঘণ্টা অনুসন্ধান চালিয়েও নাসির মিয়ার কোনো সন্ধান পাননি। পরে নিহতের স্বজনরা বাপ্পিকে বাজিতপুর থানার এসআই সবুরের কাছে সোপর্দ করেন।
রোববার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মাইছচর ইউনিয়নের কাজীপাড়া কবরস্থানের পাশের নদীতে স্থানীয় জেলেরা একটি মরদেহ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে বাজিতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা মরদেহটি নাসির মিয়ার বলে শনাক্ত করেন। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের স্ত্রী মোছা. জান্নাত (২৫) অভিযোগ করে বলেন, “শুক্রবার সন্ধ্যায় আমার স্বামী ভাত খাওয়ার সময় দয়াল ও বাপ্পি মাছ ধরার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। আমার স্বামীকে এভাবে হত্যা করবে, তা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
নিহতের মা মোছা. মনুরা বেগম (৬০) বলেন, “যারা আমার বুক খালি করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।”
নিহতের ভাই ও দিল্লালপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. বাছির মিয়া বলেন, “আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
নিহতের ভাই মো. লালু মিয়া (২৩) অভিযোগ করে বলেন, “আমি নিজের চোখে আমার ভাইকে দয়াল, বাপ্পি ও আরও কয়েকজনের সঙ্গে যেতে দেখেছি। আমার ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।”
নিহতের বোন ঢালিয়া খাতুন বলেন, “আমার ভাইকে যারা হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
পরিবারের অভিযোগে অভিযুক্ত দয়াল মিয়ার স্ত্রী আকি আক্তার বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
দিল্লালপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সজল মিয়া বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”
এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ মুঠোফোনে বলেন, “এটি একটি হত্যাকাণ্ড। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বাপ্পি নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্তে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























