
অভিযোগ উঠেছে, এই বিশাল নিয়োগ দুর্নীতি ও জালিয়াতির মূল আশ্রয়দাতা ও পৃষ্ঠপোষক কর অঞ্চল-১২-এর কর কমিশনার মুহাম্মদ আমিনুর রহমান। নিয়োগ কমিটির শীর্ষ প্রধান ও আহ্বায়ক হিসেবে এত বড় অনিয়ম ও দুর্নীতির দায় তিনি কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের অনেকেই।
কর অঞ্চল-১২-এর অতিরিক্ত কর কমিশনার মো. জসীম উদ্দিন আহম্মেদও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ওই নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন স্বয়ং কমিশনার মুহাম্মদ আমিনুর রহমান এবং সদস্য সচিব ছিলেন বর্তমানে কর অঞ্চল নোয়াখালীতে দায়িত্ব পালন করা উপ কর কমিশনার মো. হাফিজুল ইসলাম।
অভিযোগ উঠেছে, যোগ্য ও উপযুক্ত প্রার্থীদের বঞ্চিত করে সম্পূর্ণ নিয়োগ কমিটিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করা সত্ত্বেও কর কমিশনার মুহাম্মদ আমিনুর রহমান সবকিছু জেনেও রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছেন। এমনকি গত সেপ্টেম্বরে কর অঞ্চল-১২ তে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে জালিয়াতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর কমিশনার জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। উপরন্তু তিনি জড়িত দুর্নীতিবাজদের বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করছেন।
এদিকে অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিভাগীয় নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও উপ কর কমিশনার মো. হাফিজুল ইসলাম নিজ প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই জালিয়াতির মূল নকশা তৈরি করেন। তার প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা ও চূড়ান্ত স্বাক্ষরেই গত সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় অন্তত ১১ জন প্রার্থীকে অনৈতিকভাবে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। এছাড়া ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের পদে কোটি কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
নিয়োগ জালিয়াতি চক্রের অন্যতম প্রধান কারিগর কর অঞ্চল-১২-এর নাজির ফুয়াদ হাসান আকন্দ তার আপন ভাই শামীম আশরাফকে চাকরি পাইয়ে দিতে চরম জালিয়াতির আশ্রয় নেন । ময়মনসিংহের ত্রিশালের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও ঢাকা জেলার কোটা সুবিধা নিতে যাত্রাবাড়ীর ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করা হয়। অন্য কর অঞ্চলে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়লেও সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম নিজ ক্ষমতাবলে তাকে প্রথম স্থান পাইয়ে দেন। জালিয়াতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে সাধারণ কর্মচারী থেকে নাজির ফুয়াদ মাত্র ৭ বছরে প্রায় অর্ধ শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। যদিও গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে রাঘব বোয়ালরা বাঁচতে তড়িঘড়ি করে নাজির ফুয়াদকে কর অঞ্চল-১২ থেকে বদলি করে দেয় কর অঞ্চল পাবনায়।
এই দুর্নীতির সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে কর অঞ্চল-১২’র সাবেক নাজির ও বর্তমানে কর অঞ্চল-নোয়াখালীতে কর্মরত কর পরিদর্শক মোহাম্মদ রুবেল দর্জিও। রুবেল দর্জির বিরুদ্ধেও রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম ও বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ। সম্প্রতি আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট (আইটিআইইউ) কর পরিদর্শক রুবেল দর্জি, তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস এবং বাবা জামাল উদ্দিন দর্জির ব্যাংক হিসাব ও এফডিআর (মেয়াদি আমানত) ফ্রিজ করেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ৪.৫ একর জমি, ব্যক্তিগত গাড়ি ও বেনামী ফ্ল্যাটও রয়েছে রুবেল দর্জির।
গণমাধ্যমে অনিয়মের খবর প্রকাশের পর নাজির ফুয়াদ হাসান আকন্দকে পাবনা কর অঞ্চলে বদলি করা হলেও ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের মতে, মূল হোতাদের আড়াল করতে এটি একটি ‘আইওয়াশ’ বদলি মাত্র। যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি বঞ্চিত হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে নিয়োগ কমিটির এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনি ব্যবস্থা ও ফৌজদারি মামলা দায়েরের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা ।
এই সকল গুরুতর অভিযোগ, নিয়োগ জালিয়াতি এবং দুর্নীতিতে আশ্রয় প্রদানের বিষয়ে জানতে চেয়ে একাধিকবার কর কমিশনার মুহাম্মদ আমিনুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। এমনকি তাঁকে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলেও তিনি কোনো প্রকার উত্তর প্রদান করেননি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























