
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি কেনাকাটা ও টেন্ডারে প্রভাব বিস্তার, বিভাগীয় তদন্তে হস্তক্ষেপ, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং অধিদপ্তরের গোপনীয় প্রশাসনিক তথ্য বাইরে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি সরকারি আবাসন অননুমোদিতভাবে ব্যবহার এবং সাময়িক বরখাস্ত ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের অভিযোগও সামনে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, অধিদপ্তরের বদলি, পদায়ন ও নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্তে আব্দুল আলীমের প্রভাব রয়েছে। পছন্দের ব্যক্তিদের সুবিধাজনক স্থানে পদায়ন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
একই সঙ্গে সরকারি কেনাকাটা ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে।
ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন বিভাগীয় তদন্ত কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষে সুবিধা তৈরি এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছে।
এমনকি তদন্তে দায়ী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে তাঁদের পক্ষে প্রতিবেদন প্রভাবিত করার অভিযোগও উঠেছে।
মহাপরিচালকের গোপনীয় সিদ্ধান্ত বাইরে সরবরাহের অভিযোগ
অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক তথ্য এবং বর্তমান মহাপরিচালকের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য বাইরের কিছু বিতর্কিত ব্যক্তির কাছে সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসনের ভেতরের একটি যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে অধিদপ্তরের স্পর্শকাতর তথ্য বাইরে পৌঁছে যাচ্ছে। এতে দাপ্তরিক গোপনীয়তা ও তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে উঠে এসেছে সাময়িক বরখাস্ত ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিনের নাম। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আব্দুল আলীমের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ আছে। মিরপুরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে তাঁদের বৈঠকের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, এই যোগাযোগের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরীণ তথ্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক ডাটাবেজ এবং অধিদপ্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত আদান-প্রদান হয়ে থাকতে পারে।
প্রিন্সিপালের সরকারি কোয়ার্টারে অননুমোদিত বসবাসের অভিযোগ
মিরপুরে ফায়ার সার্ভিসের প্রিন্সিপালের জন্য নির্ধারিত সরকারি কোয়ার্টারে আব্দুল আলীমের অননুমোদিতভাবে বসবাসের অভিযোগও সামনে এসেছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতির নাম ব্যবহারের অভিযোগ
আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নাম ব্যবহার করে প্রশাসন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভয়ভীতি ও হয়রানির অভিযোগ
অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাপের মধ্যে রাখার ঘটনা ঘটছে।
এসব অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল আলীমের কাছে জানতে চাইলে। তিনি কোন মন্তব্য করেননি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























